স্বাধীনতা

ভূমিকাঃ

বাংলার ইতিহাস দীর্ঘকালের ঐতিহ্যমন্ডিত,বীরত্বপূর্ণ ও সংগ্রামের ধারায় গৌরবোজ্জল। প্রাচীন কাল থেকে জনগণ মেহনতী মানুষ শ্রম, ঘামে, কর্ম ও সাধনায় একটি সমৃদ্ধ জনপদ নির্মাণ করেছিল। মেঘনা, ব্রম্মপুত্র এবং পদ্ম্ও অববাহিকায় শস্যশ্যামলা, সুজলাসুফলা বলে সুখ্যাত বালাদেশের জনগণের ঘরে ঘরে গোলভরা ধান ও পুকুর ভরা মাছ ছিল। মোট কথা দেশের জনগণ সুখে শান্তিতে বাস করত। কিন্তু এই সুখ বাঙ্গালীর জীবনে বেশী দিন টিকতে পারে নি। প্রায় আড়াইশ বছর আগে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ নবাব সিরাজ উদ্দৌলাকে পরাজিত করে বৃটিশ উপনিবেশিক শক্তি বাংলা দখল করে নেয় । আস্তে আস্তে বৃটিশ উপনিবেশিক শাসন সমগ্র ভারতবর্ষে বিস্তার লাভ করে। সেদিন তাদেরকে বিতাড়িত করার কোন চেষ্টাই বাঙ্গালী বা ভারতবাসী সফল করতে পারে নি। এমনকি ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহও সফল হয়নি। তাদের দিনে দিনে গড়ে উঠা আইন কানুন, বাংলার মানুষকে শৃঙ্খলিত এবং সত্যিকার ভাবেই পরাধীন করে তোলে।

বৃটিশ আসার আগে মোগলরা হাজার বছর ধরে বাংলাসহ সাড়া ভারত রাজত্ব করেছে বাংলা থেকে হাজার মাইল দুরে দিল্লী থেকে। কিন্তু বৃটিশ সাড়া ভারত রাজত্ব করেছে বাংলার কলিকাতা থেকে। রাজধানী কলিকাতা থাকায় সারা ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলার কলিকাতা। তখন বাংলা সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল যে, “What Bengal thinks to-day India thinks to-morrow”

মোট কথা সাড়া ভারতের রাজনীতি ছিল বাংলা কেন্দ্রিক, তাই ১৯ শে জুলাই ১৯০৫ সালে, ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ( যার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নির্মিত) বাংলা ভাগ করে দেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন। তখনই ভারতের রাজধানী কলিকাতা থেকে দিল্লী স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয় যাহা ১৯১১ সালে বড়লাট ”কনট” স্থানান্তর করে। এবং সেই সালেই বাংলা আবার এক হয়ে যায় (লর্ড হার্ডিঞ্জ এর আমলে)। মোট কথা, ভারতের রাজধানী, রাজনীতি বাংলার কলিকাতা থেকে হাজার মাইল দুরে দিল্লীতে চলে যাওয়ার ফলে ভারতের রাজনীতি কলিকাতা/ঢাকা থেকে দিল্লী/লাহোরে চলে যায়। বাংলার পক্ষে কেউ কথা বলার বা শোনার নেতৃত্ব রইল না। আরও একটি বিশেষ কারন হলো যাকে ভাগ্যের পরিহাস বলা যায় তা হলো সুভাস বসুর অন্তর্ধান এবং জাপানী/জার্মানির পতন। বাংলার কথা বলার কেউ রইল না। অনেক বাংগালী নেতা যেমন বংগবন্ধু সেখ মজিবুর রহমান, এ,কে,ফজলুল হক, সরওয়ার্দি আরও অনেক বাংগালী নেতাগনে কথা কেউ আমলে নেয় নি। রাজনীতি চলে গেল পশ্চিমে, দিল্লী এবং লাহোওে,তারাই বাংলার ভাগ্য নির্ধারন করল। যে হিন্দু মুসলিম মিলে ১৯১১ সালে বাংলা এক করল তারাই ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাগ করতে বাধ্য হলো।
পশ্চিম বাংলাকে লোভ দেখানো হয়েছিল তারা এতবড় ভারতের সংেগ যোগ দিলে অনেক চাকুরী, অনেক ব্যবসার সুযোগ পাবে, কিন্তু সে গুড়ে বালি বরং হাজার মাইল দুরে পাকিস্তান কোনদিনই বাংলাকে/বাংগালীকে ধরে রাখতে পারতো না। বাংলা আজ পুরুটাই স্বাধীন হতো। যাই হউক তা অতীতের কথা। তবে অনেকেই পূর্ব বাংলার অস্তিত্বকে নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেন। অনেকেই ভাবেন এই ছোট্ট দেশ টিকবে তো?
আল্লাহর রহমতে জনগণের সাহস ও নিষ্ঠার জন্য পূর্ব বাংলার জনগণ প্রমাণ করতে পেরেছে যে তারা নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে। কিন্তু নিজেদের স¦কীয়তা বজায় রাখতে গিয়ে বাধ সাজে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী। আবার শুরু হয় সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। তারা যেমন বৃটিশের সঙ্গে সংগ্রাম করেছে তেমনি সংগ্রাম করেছে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্টির সঙ্গে। প্রথমে জয়ী হই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান একটি প্রদেশ ছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান চারটি প্রদেশ ছিল, আমরা দুটি প্রদেশে ভাগ করি এবং অবশেষে ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদেরকে স¦াধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করি। আর তাই আজ আমরা অর্ধেক বাংলার জনগণ একটি স¦াধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেরা সফল সমাজ গড়ার স¦প্ন দেখছি এবং গর্ব অনুভব করছি। এই স¦াধীনতার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ অন্যায়, অবিচার সহ্য করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। স¦াধীনতা আমাদের নিজেদের ভাগ্য গড়ার সুাযাগ এনে দিয়েছে। এখন আর আমরা পরাধীন নই।

অবশ্য আমরা কৃতজ্ঞতাভরে স্বরণ করছি আমাদের ওপারের বাংগালী ভাইদের এবং পার্শবর্তী প্রতিবেশী ভারত, যারা আমাদের মুক্তি সংগ্রামে সাহায্য করেছেন। আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি সোভিয়েট রাশিয়াকে তাদের ”ভেটো” দিয়ে সাহায্য করার জন্যে যা নাহলে আমরা এত তারাতারি স্বাধীন হয়ত হতে পারতাম না। এর জন্য সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ বিশেষ কওে আল্লাহ তাহলাকে। তবে যদি সেদিন বাংলা এক থাকতো আজ হয়ত সারা বাংলাই স্বাধীন হতো।
১৯৪৭ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর ভারতবর্ষ থেকে বৃটিশ বিদায় নেয় এবং ভারত স¦াধীনতা লাভ করে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামক দুই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রীয়ায় বাংলা বিভক্ত হয়। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের সংগে যোগ দেয়। যে বাংলা বিভক্ত করে বাঙ্গালী জাতিকে ধ‘¦ংস করার প্রচেষ্টা চালানো হলো। বাংলার এই বিভক্তি বাঙ্গালীর স¦কীয়তায়, অর্থনীতিতে, সং¯কৃতিতে ভীষণভাবে আঘাত হানে। রাষ্ট্রের সকল কার্য্যক্রম পরিচালিত হয় আইনের মাধ্যমে। যে আইন এতদিন ঔপনিবেশিক শাসকরা তৈরি করেছে, আজ আমরা নিজেদের আইন নিজেরাই তৈরি করার অধিকার পেয়েছি। জনগণ দ্বারা নির্বাচিত আইন পরিষদই দেশের আইন প্রণয়নের সর্বময় ক্ষমতার উৎস।

বাংলাদেশ আজ একটি স¦াধীন রাষ্ট্র। এই স¦াধীনতার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ অন্যায়, অবিচার সহ্য করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। স¦াধীনতা আমাদের নিজেদের ভাগ্য গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। রাষ্ট্রের সকল কার্য্যক্রম পরিচালিত হয় আইনের মাধ্যমে। যে আইন এতদিন ঔপনিবেশিক শাসকরা তৈরি করেছে আজ আমরা নিজেদের আইন নিজেরাই তৈরি করার অধিকার পেয়েছি। কিন্তু আজও রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে পরাধীন আমলের পুরাতন আইন দ্বারা। ঔপনিবেশিক আইন অর্থাৎ পরাধীন দেশের আইন দ্বারা স¦াধীন দেশের জনগণের কোন উপকার হতে পারে না। কারণ ঐ সমস্ত আইন দ্বারা দেশের জনগণ হয়েছে শোষিত ও অত্যাচারিত তাই ঐ সমস্ত আইন অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত কোন আইন দিয়ে ন্যায় আশা করা অবান্তর। সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ছাড়া জনগণের উন্নয়ন এবং দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা আশা করা যায় না। আড়াইশত বছর যাবৎ তিলে তিলে গড়ে উঠা ঔপনিবেশিক আইন এদেশের জনগণকে শোষণ ও অত্যাচার করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। এইসব আইনের সুযোগে কেউ কেউ অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি করছে আবার কেউ সন্ত্রাসী হচ্ছে।

আমাদের দেশে সম্পদ ছিল লুট করে নিয়েছে, রয়েছে অনেক, কিন্তু ব্যবস্থাপনার অভাবে এসব সম্পদ কাজে লাগাতে পারছি না। বিরাট জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এদেশের সম্পদ বৃদ্ধি করা যায়। দেশের সম্পদ দেশেই পড়ে থাকবে যদি মানুষ বা জনগন এগুলোকে কাজে না লাগায়। আমরা স¦াধীনতা অর্জন করেছি । স¦াধীনতা রক্ষা করার দায়ীত্ব এখন আমাদের। আমাদের খাবার আমাদেরই যোগাড় করতে হবে অন্য কেউ যোগাড় করে দেবে না। স¦াধীতা অর্জনের জন্য সংগ্রাম, হরতাল, অবরোধ, হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্মক আরও অনেক বৈরী ও নেতিবাচক আন্দোলন তখন প্রয়োজন ছিল, জনগনও তা সানন্দে গ্রহন করেছে, কিন্তু বর্তমানে সেসব পদ্ধতির কোন প্রয়োজন নেই বরং ক্ষতিকর অর্থাৎ নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মত। আজকে প্রয়োজন রাষ্ট্রপরিচালনায় সক্ষম নেতৃত্ব দেশের বৃহত্বম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হলে প্রথমে তাদের কাজ করার বাধা বিপত্তিকে সরাতে হবে তবেই জনগণ যার যা আছে তা নিয়েই কাজে লেগে যাবে, তখন যদি জনগনকে সরকার বা বিদেশী কেউ সাহায্য করতে চায়, সানন্দে গ্রহন করবে। এই দায়ীত্বই নুতন নেতৃত্বের কাছে জনগণের প্রত্যাশা। তাই প্রথমে প্রয়োজন ঃ

১। শত শত বৎসরের পরাধীনতায় গড়ে উঠা শোষন এবং অত্যাচারের আইন থেকে জনগনকে মুক্ত করা। বাংলাদেশ একটি নতুন স¦াধীন রাষ্ট্র কিন্তু রাষ্ট পরিচালিত হচ্ছে পরাধীন আমলের পুরাতন আইন দ্বারা। এই সমস্ত আইন পরিবর্তন করে স¦াধীন দেশের উপযোগী আইন প্রনয়ন করতে হবে কারন ঃ

ক। ঔপনিবেশিক আইন অর্থাৎ পরাধীন দেশের আইন দ্বারা স¦াধীন দেশের জনগণের কোন উপকার হতে পারে না। ঐ সমস্ত আইন দ্বারা দেশের জনগণ হয়েছে শোষিত ও অত্যাচারিত তাই ঐ সমস্ত আইন, অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত কোন আইন দিয়ে ন্যায় আশা করা অবান্তর ।

খ। সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ছাড়া জনগণের উন্নয়ন এবং দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা আশা করা যায় না। আড়াইশত বছর যাবৎ তিলে তিলে গড়ে উঠা ঔপনিবেশিক আইন এদেশের জনগণকে শোষণ ও অত্যাচার করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। যারা এইসব আইন জনগণের উপর প্রয়োগ করছে তারাও শোষণ ও অত্যাচারে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, যেন নিজেদের অজান্তেই , আইন মানতে গিয়ে, মানুষের উপর অন্যায়, জুলুম করছে। এখানে উল্লেখ্য যে, এই অভ্যাসের ফলে ১৯৪৭ সালের পরেও যে সব আইন প্রণয়ন হয়েছে তাও সরকারের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে নয় এবং শোষণ এবং দমন নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত, জনগণের স¦ার্থে বা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়।

গ। যতদিন ঔপনিবেশিক আমলের সৃষ্ট আইন কানুন বা পুরনো আইন কানুন পরিবর্তন করে স¦াধীন দেশের উযোগী নিয়ম কানুন প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন দেশের জনগণের কোন উন্নয়ন বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতে পারে না। জনগণ শোষণের শিকার হতেই থাকবে । অত্যাচারের আইন কানুন দিয়ে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা অর্জন করা যায় না। সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। এই সব অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর জনগণ হয় জুলুমের শিকার। তাই আজ প্রয়োজন অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত ঔপনিবেশিক আইন পরিবর্তন করে স¦াধীন দেশের জনগণের উপযোগী আইন প্রণয়ন করা । তবেই দেশের উন্নয়ন এবং দেশের শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।

ঘ। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং আইন শৃঙ্খলার যে অবনতি পরিলক্ষিত হচ্ছে তাতে যে কোন সচেতন নাগরিকই আতংকিত এবং শংকিত। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনজীবনে নেমে এসেছে হতাশা এবং অস্থিরতা। দূর্নীতি, সন্ত্রাস উচ্ছেদ হওয়ার পরিবর্তে জাতিকে আজ অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ধরেছে। সন্ত্রাসীদের হাতে শিশু, নারী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সহ আপনার জন সাধারণ হত্যার শিকার হচ্ছে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি , দখল ও দলীয়করণ আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা বাণিজ্য, জাতীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ধ্বংস করছে। সমাজ ও রাজনীতি আজ দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের নিকট জিম্মী । বর্তমান দুরবস্থার জন্য দায়ী বর্তমান আইন কানুন, যাহা সম্পূর্ণ এক তরফা এবং সরকারের পক্ষে প্রণীত। অনেক ক্ষেত্রে একচেটিয়া ক্ষমতা থাকার পলে কিছু কিছু অসৎ
দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই সব আইনের সুযোগে জনগণের উপর জুলুম ও অত্যাচার, নিপীড়ন চালায়। যেহেতু আইন দ্ারা ক্ষমতা প্রাপ্ত তাই বিচারব্যবস্থায় তাদের বেলায় শাস্তি হয় না বরং তাদের দুস্কর্ম আইন দ্বারা রক্ষিত। আবার ঠিক তেমনি করের নামেও চলে জনগণের উপর জুলুম।

২। বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিষদভাবে বলা ঠিক হবে না। শুধু এইটুকু বলা যায় যে ওটাও ঔপনিবেশিক আমলের তৈরি আইন দ্বারা পরিচালিত। তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল শোষণ। তাদের প্রতিষ্ঠিত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায় বিচার করার চেয়ে বড় কাজ ছিল অন্যায় ও অত্যাচারকে বিচারের মাধ্যমে ন্যায়ের শীলমোহর মারা এবং রাজস¦ আদায় করা। বাদী বিবাদী, আসামী ফরিয়াদি সকলের নিকট থেকে বিচারের নামে রাজস¦ আদায় করা এবং ঔপনিবেশিক সরকারের শোষণ ও অত্যাচারকে আইনতঃ বৈধ করা। এখানে হয়রানির নামে মিথ্যে মামলা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা আজও বিদ্যমান। আজও তাই সরকারের অনেক অবৈধ কার্য্যক্রমকেই বিচার বিভাগকে বৈধ করতে হয়। কে প্রশাসন থেকে আলাদা করার উদ্যোগ থেকে অবস্থার আসল রূপ ধরা পড়ে। যেহেতু বিচার ব্যবস্থা আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, বিচারকও আইনের বাইরে যেতে পারেন না। বর্তমান ব্যবস্থার ন্যায় অন্যায়ের বিচার হয় না বরং আইনের বিচার হয়। আইন যদি অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় সেই আইন দ্বারা বিচারও ন্যায় বিচার হতে পারে না। দ্রুত এবং ন্যায় বিচারের জন্য বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন করা বিশেষ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে জনবল, বিচারকদের সংখ্যা এবং কোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করাসহ কাঠামোগত উন্নয়নের বিশেষ প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে আজ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটিতে দাড়িয়েছে। সেই অনুপাতে বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

আমরা অনেকেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি এইসব আইন কানুনে এবং তাই আমরা বিষ¦াষ করি যেন এইসব আইন কানুন ছাড়া আমরা বাচতে পারব না। পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে যাদেও আইকানুন আলাদা আলাদা, বিচার ব্যব¯া’ও আলাদা যেমন ধর্ম আলাদা, খাবার আলাদা, আচার আচরন আলাদা. আসলে ২০০ শত বছরের গোলামী আমাদের শিরায় শিরায় গেথে গেছে। এটাই ােলামীর স্বভাব। অনেকে পিতৃপুরুশের নামও ভ’লে গেছি বা ভুলিয়ে দিয়েছে।

৩। দেশের বিশাল জনগোষ্টিকে উন্নয়নের কাজ লাগানো ।

অতীতের শোষন ও অত্যাচারের আইন কানুন যখন আর সত্যিকার অর্থেই থাকবে না তখনই জনগণ নিজদেরকে স¦াধীন মনে করবে। যার যতটুকুই যোগ্যতা আছে সে ততটুকু দিয়েই উন্নয়নের চেষ্টা করবে । বিশ্বের অনেক ধনী দেশ ও জনগন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ? দেশের সম্পদ, বিদেশীদের সাহায্য, কোন কিছুই দেশের এবং জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আনতে পারে না,যদি সুষ্ঠুভাব ব্যবহৃত না হয়। বলা বাহুল্য,স¦াধীনতার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে অর্থনৈতিক মুক্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন। দেশের জনগন দেশের সম্পদের মালিক। বিদেশীরা এখন আর দেশের সম্পদ লুন্ঠন করতে পারবে না।নিজেদের অর্থনীতি নিজেরাই ঠিক করব। যে নীতির মাধ্যমে দেশের বা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয় তাকেই সে দেশের অর্থনীতি বলা যায়। অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্যই হলো দেশের ও জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন এবং উন্নয়নের মাধ্যমে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন। অতীতে সরকার এই কর্মকান্ডে কর আদায় ছাড়া তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতো না। কিন্তু বর্তমানে সরকারের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে বি¯Íিৃত লাভ করেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের ভূমিকাই এখন প্রধান। তাই প্রতি বছর সরকার বাজেট তৈরী করে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের দিকনির্দেশনা দেয় তাই অর্থনীতি তৈরী করা সরকারের একটি প্রধান দায়ীত্ব সুষ্ঠু কোন নীতিমালা তৈরী করার জন্য প্রয়োজন দক্ষ, শিক্ষিত ও যোগ্য লোকের অর্থাৎ প্রশাসনের , কিন্তু বিশেষভাবে প্রয়োজন সুযোগ্য, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব যারা জনগনের চাহিদা উপলব্ধি করতে পারে।

ক। অর্থনীতি
অতীতের মান্ধাতা আমলের অর্থনীতি দিয়ে জনগনের কোন মংগল বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতে পারে না। অতীতের অর্থনীতি ছিল কর নির্ভর। রাজা প্রজাদের নিকট থেকে কর আদায় রত এবং সেই অর্থ দিয়ে রাজ্য পরিচালনা করত, আবার নিজের খরচ মেটাতো। কেউ প্রজাদের উপর জুলুম করত আবার কেউ দয়া দেখাতো । কিন্তু রাজ্যের এবং রাজার সব প্রয়োজনীয় / অপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হতো প্রজাদেরই। যদি দুর্ভাগ্যবশতঃ বিদেশীরা রাজ্য দখল করত তবেতো দেশবাসীর ভাগ্যে জুলুমের অন্ত ছিল না, যেমনটি ঘটেছিল বাংলাদেশীদের ভাগ্যে। পরধীনতার শেকল পড়িয়ে তিলে তিলে তৈরী করা শোষন ও অত্যাচারের আইন কানুন দিয়ে জনগনের উপর চালিয়েছে জুলুম। একটি হলো অর্থনীতি নামে শোষণ অপরটি হলো ‘‘আইন শূংখলার ’’নামে অত্যাচার ।

খ। সম্পদ
বাংলাদেশের ৮০% সম্পদ, যেমনঃ গ্যাস,পানি, বিদ্যুত, খনিজ ইত্যাদি যেখানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এই সম্পদের লাভ সরকারের আয় হিসাবে ধরা যায়, সেখানে সরকার চালানোর খরচ এইসব আয় থেকে মেটানো সম্ভব । তাহলেই করের চাপ থেকে জনগন কিছুটা হলেও নিস্তার পেতো । অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে, করের আওতা বাড়ানো উচিত অর্থাৎ তাদের মতে ষোল কোটি লোককে করের চাপে ফেলা । তাদের চিন্তাধারা বিদেশি, তাই এরা দেশের দরিদ্র জননের অবস্থা উপলব্ধি করেতে পারে না। এদেশে যারা বেশী আর. করে, বেশী সম্পদ ভোগ করে, তারাই সবচেয়ে কম কর দেয়, অথচ রাষ্ট্র পরিচালনার বাায় সবটাই তাদের বহন করা উচিত।

বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র দেশ। সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশী সুতরাং সম্পদের অপচয় আমাদের জনো খুবই ক্ষতিকর। অথচ আমরা অনেকেই এদেশের সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এবং রেখে যাচ্ছি জনগণের জন্যে বিদেশী ঋণের বোঝা । ফলে টাকার মূল্য কমে যাচ্ছে এবং দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। এর কোন কার্য্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের অর্থনীতি পংগু হতে বাধ্য।

বাংলাদেশের ‘‘মাটি’’ ও ‘‘ মানুষ’’ সব চেয়ে বড় সম্পদ। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। জনগোষ্ঠির ৮০% কৃষির উপর নির্ভরশীল। সুতরাং কৃষির উন্নয়ন ছাডা এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অবাস্তব। আবার দেশের বিশাল জনগোষ্টিকে কাজে লাগাতে হবে এবং কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তিলে তিলে গড়ে উঠা বাধা বিপত্তি ও শৃংখল থেকে জনগনকে মুক্ত করতে হবে। অনেকের কর্মসংস্থান নেই এবং এই সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে । ব্যবসা বাণিজ্য সবাই করতে পারে না, অনেকে পূঁজি হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। প্রয়োজন বেকারত্ব দূর করার এবং দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

খ। দুর্নীতিঃ

ঐসব শোষণ ও অত্যাচারের আইন পরিবর্তন না করা পর্য্যন্ত দুনীতি চলবেই। শুধু শাস্তি দিয়ে অতীতেও কোন লাভ হয় নাই ভবিষ্যতেও কোন লাভ হবে না। সুষ্ঠু নীতিমালা বা ভাল সিষ্টেম তৈরী করতে হবে। ভাল মানুষ খোজার চেয়ে ভাল সিষ্টেম খোজা প্রয়োজন, যে সিষ্টেমমত কর্মীরা কাজ করবে । তবে মনে রাখতে হবে যে ক্ষমতাই দূর্নীতির উৎস, বর্তমানে যেহেতু সরকারের হাতেই সর্বময় ক্ষমতা তাই দুনীতিও সেখানেই। প্রবাদ আছে, “Power makes a man corrupt and absolute power makes him absolutely corrupt”. সরকার, সরকারের মন্ত্রী, কর্মকর্তা, কর্মচারি এরাই ক্ষমতার অধিকারী এবং দুর্নীতি করার সুযোগ তাদেরই বেশী। তাদের প্রস্রয় ছাড়া কারও দুর্নতি করার কোন সুযোগ নেই। রাষ্ট্রই তাদেরকে আইনের মাধ্যমে ক্ষমতা দিয়েছে। সেই আইনের অপব্যবহার দ্বারা তারা দুর্নীতি করতে পারে আবার আইনের ব্যবহার করেও তারা দুর্নীতি করতে পারে, যদি সেই আইন অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। সুতরাং দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে যেমন আইনের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে তেমনি আইনেরও পরিবর্তন করতে হবে। শুধু শান্তি দিয়ে দুর্নীতির মত অপরাধ থেকে দেশকে মুক্ত করা যাবে না। দূনীতি দমন বা উচ্ছেদ অভিযানে সবসময়ই জনগণ বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয় অথচ আসল দূনীর্তিবাজ, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করল, তাদের কিছু হয় না।

গ। সন্ত্রাস ঃ

সন্ত্রাসের মুল কারন অন্যায়। বর্তমান আইন কানুন যেহেতু অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, সমাজে অন্যায় আইনত প্রতিষ্ঠিত। এইসব সরকারী শোষণ ও অত্যাচারের জন্য জনগণ বিশেষ করে অনেক শিক্ষিত ছেলেরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচেছ আর যেসব ছেলেরা দেশে থাকতে বাধ্য হচেছ তারা প্রতিবাদ করতে গিয়ে হচ্ছে মাস্তান, সস্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং ভাগ্যে জুটছে মামলা মোকদ্দমা, জেল হাজত, কারাবাস কিংবা ফাঁসি। ফলে শিক্ষিত ছেলেরা হয় বিদেশে নয় জেলে, বাকি যারা দেশে থাকে তাদেরকে দিয়ে দেশ কি আশা করেত পারে। শুধু দন্ড, শাস্তি দিয়ে অপরাধ কমানো যাবে না। ১৯৪৭ সালের পর থেকে এইসব শাস্তি এবং দমন নীতির প্রয়োগে কোন সুফল বয়ে আনেনি বরং দিন দিন অপরাধ বেড়েই চলেছে। স¦াধীন রাষ্ট্রের জনগণ বিশেষ করে যুব সমাজ কোন দিনই এসব অন্যায় মেনে নিতে পারে নি এবং তাই দিন দিন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে এবং সরকার পতনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে । বড় দুর্ভাগ্য কেউই জনগণের এই প্রতিবাদের ভাষা উপলব্ধি করতে পারে নি বরং শোষণ ও অত্যাচারের/ দমনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। করের নামে জনগণ হচ্ছে শোষিত এবং আইন শৃঙ্খলার নামে জনগণ হচ্ছে অত্যাচারিত। ঠিক আগেও যা ছিল আজও তাই । শুধু সরকার বদল হয় কিন্তু আইনের বদল নেই । বরং ১৯৪৭ সালের স¦াধীনতার পর যেসব আইন প্রবর্তন করা হয়েছে তা কোন কোন ক্ষেত্রে অতীতের চেয়েও খারাপ এবং জনগণের স¦াধীনতা খর্ব করার শামিল। তাই প্রয়োজন আইনের পরিবর্তন, মানুষের পরিবর্তন, শাস্তি বা হত্যা করে কোন লাভ হবে না। আইনের শাসন ছাড়া কোন গতি নেই, তবে আইন ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সরকার এবং জনগণের সম্পর্ক অতীতেও যা ছিল আজও তাই আছে শোষণ ও অত্যাচারের সম্পর্ক । এই সম্পর্কের পরিবর্তন প্রয়োজন এবং আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও সুরক্ষিত হতে হবে।

ঘ। উন্নয়ন ঃ
উন্নয়ন বলতে অনেক কিছুই বোঝায় বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন । তবে এই প্রক্রিয়ায় অনেক অপ্রত্যাশিত কার্য কলাপের জন্ম হয়, যেমন দুর্নীতি, মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি যা হয়ত সম্পূর্ণভাবে রোধ করা সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার। আমাদের দেশে উন্নয়নের সাথে দূর্নীতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে দুর্নীতিবাজদের দমন না করতে পারলে জনগণ ‘‘উন্নয়নের’’ প্রতি আস্থাশীল হতে পারছে না। জনগণ যেন বলতে চাচ্ছে ‘‘ভিক্ষার দরকার নেই’’ কুকুর সামলান’’।

বাংলাদেশের সমস্যা অনেক যেমন দুর্নীতি, সস্ত্রাস, দারিদ্র, কিন্তু উপসর্গ দেখে চিকিৎসা করলে যেমন লাভ হয় না, প্রয়োজন রোগ নির্নয় করা এবং রোগের চিকিৎসা করা, তেমনি বাংলাদেশের বর্তমান রোগ হলো দেশের বর্তমান আইন কানুন যার বহু উপসর্গ। বাংলাদেশের জনগণ এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে চায়। বার বার তাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বদল হচ্ছে। কিন্তু আসল রোগ ধরতে পারছে না আর তাই চিকিৎসাও হচ্ছে না। কোন সরকারই দেশের মঙ্গল, শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারছে না। দেশের বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দল বার বার ক্ষমতায় এসেও অবস্থার কোন পরিবর্তন করতে পারে নি। দেশের জনগন তাদেরকে একক ভাবে সর্বময় ক্ষমতা দিয়েও দেখেছে। সংবিধান অনুযায়ী সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট, কিন্তু দুই তৃতীয়াংশ সদস্য সরকারে থাকা সত্বেও কেন অতীতের আইনের কোন পরিবতইন হয়নি তা বোধগম্য নয়।
ঔপনিবেশিক শাসকের তৈরি আইন যা সম্পূর্ণ এক তরফা এবং সরকারের জনগণকে শোষণ ও অত্যাচার করার অধিকারপ্রাপ্ত, সেই সব আইন আজও পরিবর্তিত হয়নি। ফলে আজও স¦াধীন দেশের জনগণ পরাধীন হয়ে রয়েছে হচ্ছে শোষিত এবং অত্যাচারিত।

শুধু বিচার বিভাগকে প্রশাসন বিভাগ থেকে আলাদা করে তেমন কোন লাভ হবে না, বরং তিনটি বিভাগই আলাদা হতে হবে অর্থাৎ প্রশাসন থেকে আইন পরিষদকেও আলাদা করতে হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় প্রশাসন পরিচালিত হয় মন্ত্রীদের দ্বারা, যারা আইন পরিষদেরও সদস্য। নিবইাচিত আইন পরিষদের সদস্য হিসাবে তাদের প্রধান দায়ীত্ব হন আইন প্রনয়ন করা কিন্তু তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন উন্নয়ন কাজকর্ম করতে। অথচ উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করার জন্য দক্ষ, শিক্ষিত, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে। সাংসদদের মূল্যবান সময় আইন প্রণয়নে ব্যায় হওয়া উচিত, গম বিতরন বা উন্নয়ন কাজে ব্যায় হওয়া উচিত নয়। এইসব কাজ প্রশাসনের, যেখানে রয়েছে প্রশিক্ষত, শিক্ষিত, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা ও
কর্মচারীগণ যারা মন্ত্রীদের বা সাংসদদের মত মেয়াদ ভিত্বিক নয়, ফলে দায়ত্ব এড়াতে পারে না তারা।

জনগণকে ঔপনিবেশিক শাসনের শৃংখল থেকে মুক্ত করা অর্থাৎ ঐসব শোষন ও অত্যাচারের আইন পরিবর্তন করার মানেই সত্যিকার অর্থে তাদের স¦াধীনতা দেওয়া। শুমু দেশ স¦াধীন হলে চলবে না দেশের জনগণও স¦াধীন হতে হবে। পুরানো দিনের গ্লানি থেকে দেশের জনগনকে মুক্ত করতে হবে। তবেই স¦াধীনতা অর্থবহ হবে।

সবাই চায় দেশে ‘ আইনের শাসন’’ প্রতিষ্ঠিত হউক, কেউ হুকুমের শাসন চায় না। দু‘রকমের আইন দিয়ে সমাজ চলে, একটি ধর্মের আইন এবং অন্যটি রাষ্ট্রের আইন। রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন করে আইন পরিষদের সদস্যগন এবং প্রনীত আইন প্রয়োগ করে সরকার। আমাদের দেশে যারা আইন প্রণয়ন করে তারাই আইন প্রয়োগ করে থাকেন। তাদের উপর বসে আছেন মন্ত্রী । মন্ত্রীদের নির্দেশ অমান্যকারীর চাকুরী থাকবে না । এই সুযোগে মন্ত্রী , আমলা সবাই জনগনের সম্পদ হস্তগত করেন এবং আইনত বৈধ করেন। আদালত আইনের বিচার করে, যা রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা সিদ্ধ হয়। কিন্তু ধর্মের আইনে এটি গুরুতর অপরাধ বলেই বিবেচিত। সাংবিধানিক দুর্বলতার সুযোগে যারা অপকর্মকে বৈধ করেন তাদের জন্য জনগনকে অবশ্যই অসাংবিধানিক উপায় খুজতে হয়। সুতরাং রাষ্ট্রীয় আইন যেন ধর্মীয় আইনের বিরোধী না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ন্যয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় আইন দেশে যেন প্রতিষ্ঠিত থাকে, জনগণকে যেন অসাংবিধানিক উপায় অবল¤¦ন না করতে হয়, আইন প্রণয়নকারীদের উচিৎ যেন রাষ্ট্রীয় আইন ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়, অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত আইন জনগন কখনই মেনে নেয় না।

জাতির দুভাগ্য এই যে, জনগনের ভোটে যারা নির্বাচিত হন এবং সরকার গঠন করেন তারা নির্বাচিত হয়ে প্রশাসনের / আমলাদের সাথে হাত মেলান। ১৬ কোটি জনগণের মাঝে সরকারের কর্মকর্তা, কর্মচারী সব মিলে হয়ত ২০/৩০ লক্ষ হবে, তাদের সুযোগ সুবিধে দেওয়া এবং বৃদ্ধির জন্যে সরকার এবং আমলারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ বাকী বৃহৎ জনগোষ্টির জন্য একবারও ভাবেন না। প্রত্যেকটি সরকার জনগণের উপর ঝাপিয়ে পড়েন যেন সব অপকর্মের জন্য জনগনই দায়ী। আইন পরিষদ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ এই তিনটি বিভাগই রাষ্ট্র পরিচালনা করে এবং ক্ষমাতর অধিকারী । এই তিনটি বিভাগের কর্মকর্তাগন ( যারা সিদ্ধান্ত নেয়) যাদের বড়জোর কয়েক লক্ষ হতে পারে, শুধু তাদেরকে যদি ঠিক রাখা যায় তাহলেই ১৬ কোটি লোকের দেশ ঠিক ভাবে চলবে। এই কতক লোক যদি খারাপ কাজ না করে এবং অন্যকে খারাপ কাজ করতে সাহায্য না করে, তবেই দেশ সস্ত্রাস, চাঁদাবাজ থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু তাদেরকে কেউ অখুশী করতে চায় না, বিশেষ করে যেই সরকার গঠন করে। যখনই সরকার গঠন করে এবং আমলাদের সংস্পর্শে আসে তখনই জনগন থেকে বিছ্ছিন্ন হয়ে যায়।

৪) সংবিধানঃ

একটি রাষ্ট্রের মুল আইনই হলো সেই রাষ্ট্রের সংবিধান। বাাংলাদেশ একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র। জনগন এই রাষ্ট্রের মালিক, ১৯৭২ ইং সালে জনগনের ভোটে নির্বাচিত সংসদে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে এবং বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান পাশ হয়। সংবিধানটির প্রনেতা ছিলেন বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ ডঃ কামাল হোসেন। পৃথিবীতে বর্তমানে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মুলত দুটি ধারার সংবিধান বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। একটি হলো- প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা এবং অপরটি হলো- পার্লিয়ামেন্টারী ব্যাবস্থা। যেহেতু আমরা যুক্তরাজ্যের শাসন ব্যবস্থার সাথে ২০০ বৎসর যাবৎ পরিচিত তাই এবং আমাদের বিচার ব্যবস্থাও তাদের দেশের মত তাই আমাদের সংবিধানটিও তেমনি তৈরী করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী ব্যতিক্রম হলো যে, যুক্তরাজ্যে দ্বীকক্ষ বিশিষ্ট পার্লিয়ামেন্টঃ ১) হাউজ অফ কমনস ২)অপরটি হলো হাউজ অব লর্ডস, তার উপরে রয়েছেন রাজা বা রানী। কিন্তু আমাদেরটি এককক্ষ বিশিষ্ট। যার ফলে আমাদের সংবিধান বহুবার মৌলিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে হয়েছে। দ্বীকক্ষ বিশিষ্ট হলে হয়ত অনির্বাচিত অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রয়োজন পড়তো না। বাংলাদেশে বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে আবার এই দল আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা পায়। এমতাবস্থায় একই দল রাষ্ট্র পরিচালনা করে আমার আইন প্রণয়ন করে অর্থাৎ আইন পরিষদ এবং সরকার একই ব্যক্তির (প্রধান মন্ত্রীর ) হাতে । যদিও এই পদ্ধতিকে পার্লামেন্টারী পদ্ধতি বলা হয় কিন্তু সত্যিকার অর্থে এটি একনায়কত্বের মতই একটি শাসন ব্যবস্থা, কারণ এখানে পার্লামেন্ট সদস্যদের অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একক ভাবে কোন ক্ষমতা নেই। ফলে যেই সরকার গঠন করে সে আইন পরিবর্তন করার কোন চেষ্টা করে না।

পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের সংবিধান রয়েছে। বৃটিশরা বিশ্বেও প্রায় অনেক দেশ শাসন করেছে এবং বলাবাহুল্য মুল উদ্দ্যেশ্যই শোসন করা এবং শ্বাসন বা অত্যাচার করা, তাই এইসব আইন কানুন দিয়ে প্রজাদের মংগল কামনা করা অবান্তর। তাই আমেরিকা, ফ্রান্স স্বাধীনতা পেয়ে স্সেব আইন কানুন বদলে দিয়েছে। আমাদেরও তাই আমাদেও সংবিধানও বদলানো উচিত ছিল এবং তাহলে এতবার বদলানোর প্রয়োজন হতো না। তেমনি প্রশাসনিক এবং বিচারিক আইন কানুনও আমুল পরিবর্ত করা উচিৎ।

অতীত ইতিহাস যেমনই হউক তার প্রভাব বাংলাদেশের জনগনের স্বভাবে, নৈতিকতায়, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রেই বিদ্যমান, যা অস্বীকার করার কোন সুযো নেই। উপনিবেশিক শাসন আমলের শোসন ও অত্যাচারের ফলে সৃষ্ট জটিলতা মানুষের স্বভাবে, চরিত্রে গাঁথা রয়েছে যা দ-িএক বৎসওে মুছে ফেলা যাবে না। তবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হেে অত্যাচারের ফলে সৃষ্ট জটিলতা মানু থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি অতীতেরই ফসল । যেমন, পরাধীন থাকতে থকতে মানুষ নিজস¦ চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন মনীবের আদেশ/নিষেধ মান্য করাই জনগণের একমাত্র কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়, নিজস¦ কোন মতামত বা ভালমন্দ কিছুই করার অধিকার বা চেতনা থাকে ষর স¦ভাবে, চরিত্রে গাঁথা রয়েছে যা দু-এক বৎসরে মুছে ফেলা যাবে না। তবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এইসব জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে হবে এবং এক্ষেত্রে স¦াধীনতার বিকল্প নেই। অতীত অতীত ইতিহাস যেমনই হউক তার প্রভাব বাংলাদেশের জনগণের স¦ভাবে, নৈতিকতায়, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রেই বিদ্যমান, যা অস¦ীকার করার কোন সুযোগ নেই। উপনিবেশিক শাসন আমলের শোষণ ও না । দুই শত বৎসরের পরাধীনতা/ গোলামী তাই বাংলার জনগণকে মনীব/নেতা হতে শেখায়নি, শধু ‘‘চাকর’’ বড়জোর ‘‘ভাল চাকর’’ অর্থাৎ “ your most obedient servant” হতে শিখিয়েছে। তাই আজ মনিবের ক্ষমতা হাতে পেয়েও চিন্তাধারা বদলাতে পারিনি। আজকের এই বর্তমানের দুরবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছি না। নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় আইন নিজেরা প্রনয়ন করতে পারছি না। এমনকি প্রয়োজনের উপলব্ধিটুকু হারিয়ে ফেলেছি। ‘‘ মনিবরা’’ যা লিখে গেছে (আইনের মাধ্যমে) তাই পালন করে যাচ্ছি ‘‘চাকরের’’ মত, পরিবর্তনের চিন্তা বা আবস্যকতাও মাথায় আসে না। ল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি অতীতেরই ফসল । যেমন, পরাধীন থাকতে থকতে মানুষ নিজস¦ চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন মনীবের আদেশ/নিষেধ মান্য করাই জনগণের একমাত্র কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়, নিজস¦ কোন মতামত বা ভালমন্দ কিছুই করার অধিকার বা চেতনা থাকে ষর স¦ভাবে, চরিত্রে গাঁথা রয়েছে যা দু-এক বৎসরে মুছে ফেলা যাবে না। তবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এইসব জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে হবে এবং এক্ষেত্রে স¦াধীনতার বিকল্প নেই। অতীত অতীত ইতিহাস যেমনই হউক তার প্রভাব বাংলাদেশের জনগণের স¦ভাবে, নৈতিকতায়, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রেই বিদ্যমান, যা অস¦ীকার করার কোন সুযোগ নেই। উপনিবেশিক শাসন আমলের শোষণ ও না । দুই শত বৎসরের পরাধীনতা/ গোলামী তাই বাংলার জনগণকে মনীব/নেতা হতে শেখায়নি, শধু ‘‘চাকর’’ বড়জোর ‘‘ভাল চাকর’’ অর্থাৎ “ your most obedient servant” হতে শিখিয়েছে। তাই আজ মনিবের ক্ষমতা হাতে পেয়েও চিন্তাধারা বদলাতে পারিনি। আজকের এই বর্তমানের দুরবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছি না। নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় আইন নিজেরা প্রনয়ন করতে পারছি না। এমনকি প্রয়োজনের উপলব্ধিটুকু হারিয়ে ফেলেছি। ‘‘ মনিবরা’’ যা লিখে গেছে (আইনের মাধ্যমে) তাই পালন করে যাচ্ছি ‘‘চাকরের’’ মত, পরিবর্তনের চিন্তা বা আবস্যকতাও মাথায় আসে না।

ক। ক্ষমতার রাজনীতিঃ গনতন্ত্রে রাজা নেই তবে রাজনীতি আছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা তিনটি বিভাগের উপর ন্যস্তঃ ১)পার্লামেন্ট ২) সরকার বা নির্বাহী বিভাগ এবং ৩) বিচার াবভাগ। নির্বাহী এবং বিচার বিভাগে হাজার হাজার লোক চাকুরী ভিত্তিতে কাজ করে , প্রোমোশন পান এবং পরবর্তিতে পেনশনও পান আবার অনেক ক্ষেত্রে উপরিও পান। চাকুরির মেয়াদও অন্তত ৬৫ বৎসর বয়স পর্য্যন্ত। মোট কথা সরকারী চাকুরি পাওয়া মানে সৌভাগ্য বলতে হবে। লক্ষ লক্ষ পোষ্ট তাই জনগনের সবচেয়ে বেশী সুযোগ এবং আগ্রহ সরকারী চাকুরীতে। কিন্তু রাজনীতিতে মাত্র ৩০০ টি আসন। এই ৩০০ টি আসনে আবার ইলেকশন যাতে কোন নিশ্চয়তা নেই, মেয়াদ ৫(পাচ বছর)। এতে অনেক বিশৃংখলা, মারামারি, খুনাখুনি, জেল জরিমানা, হাজত, ফাসি কতকিছু হয়।তা ছাড়া পুলিশ, আর্মি, নির্বাচন কমিশনের কত হয়রানি, কত বদনাম ইত্যাদি। তাই বলেকি নির্বাচন থেমে আছে। ৩০০ টি পদের জন্য এতকিছু, এত আয়োজন কর্মীদের কথা বাদই দিলাম, নেতাদের জন্য নির্বাচন একটি লটারী মাত্র, ভাগ্য পরীক্ষা ছাড়া কিছুই নয়। তাই ৩০০টি আসনের জন্য মারামারি তো হবেই। আমেরিকাতে সিনেট এবং কংগ্রেস মিলে নিশ্চয়ই আমাদের চেয়ে অনেক বেশী আসন, তা ছাড়াও কর্মীদের জন্য রয়েছে ২২,০০০ পোষ্ট, মানে রিপাবলিকান এবং ডেমক্রেট পার্টি মিলে ৪৪০০০ পোষ্ট। মনে হচ্ছে এদেশে রাজনীতি করা পাপ। কিন্তু রাজনীতি স্বাধীন রাষ্টের জন্য অপরিহার্য্য। তাই যারা রাজনীতি করে ভুল-ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখা উচিৎ এবং তা সংবিধানে সুরক্ষিত থাকা উচিৎ এবং তবেই রাজনীতি বিকশিত হবে।

অনেকেই মনে করেন পার্লামেন্টই সকল ক্ষমতার উৎস। তাই নির্বাচনে জিতলেই সবকিছু করা যাবে। না তা ঠিক নয়। পার্লামেন্টে মাত্র ৩০০ জন মেম্বার নিযুক্ত হন অথচ জুডিশিয়ারী, নির্বাহীতে তার চেয়ে অনেক বেশী দেশবাসী (সরকারী কর্মকর্তা) রাষ্ট্রীয় বা জনগনের কাজে নিয়োজিত থাকেন। এই বিরাট জনগোষ্টির কার্য্যক্রমই, তাহারা যদি তাাদেও কাজে সৎ, নিষ্ঠাবান না হয় তবে ৩০০ জন জনপ্রতিনীধি তেমন কিছুই করতে পারবে না। তাই জনগনকেই সচেতন হতে হবে। যতই সরকার বদল হউক না কেন তেমন কোন লাভ হবে না। অথচ এই নির্বাচনে জেতার জন্য কতইনা সংঘাত, মনে হয় এই ৩০০ জনই দেশের ভাগ্র বদলে দিতে পারবে। তারা আইন প্রনয়ন করতে পারবে কিন্তু বাকী সবাই যদি সেসকল আইন মেনে না চলে তবেতো দেশে বির্শংখলা থেকেই যাবে। যেকোন দেশের জনগন দুটি আইন মেনে চলে একটি ধর্মের আইন এবং অপরটি রাষ্টের আইন। রাষ্ট্রের আইনের উৎস হলো বিষ¦াস এবং রাষ্ট্রের আইনের উৎস হলো ক্ষমতা। দুটোরই প্রয়োজন রয়েছে। অবস্য বর্তমানে রাষ্ট্রীয় আইন ধর্মীয় আইনের উপর জবর দখল করছে যা মোটেই ভাল ফল বয়ে আনছে না বা আনবেও না। ধর্ম ভাল মন্দ শেখায় বিশেষ করে পরকালে বিস্বাস করে। তার কর্মফলের বিচার একদিন হবেই। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই বিস্বাসের অবদান অনেক রেশী। যেদিন রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের আইন ছিল না সেদিন ধর্মের আইনই মানুষের সম্বল ছিল।

আজও তাই মনে করার কোন কারন নেই যে ৩০০জন আইন প্রনেতাই দেশের সব সমষ্যা সমাধান করে ফেলতে পারবে।জনগনের সহযোগিতাই দেশের বা জনগনের সমষা সমাধান করতে পারে। তারা শুধু নির্দেশনা দিতে পারে। আল্লাহ সবাইকে এক রকম তৈরী করেন না, বুদ্বির এবং অভিজ্ঞতার, দক্ষতার হেরফের হয়েই থাকে, তার মধ্য থেকেই বেছে নিতে হবে কে কোন কাজের উপযুক্ত।

৫। সমাধানঃ
এই পরিস্থিতিতে এমন একটি রাজনৈতিক দলের এখন বিশেষ প্রয়োজন যেখানে থাকবে ন্যায়নীতি, দেশপ্রেম, প্রগতিশীল এবং গণতান্ত্রিক ও বিজ্ঞান মনস্ক ভাবধারার মানুষের সমাবেশ যারা স¦াধীন দেশের উপযোগী আইন প্রণয়ন করতে পারবে, জাতীয় সম্পদের সুষ্ট ব্যবহার করে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারবে। শিক্ষিত, অভিজ্ঞ, বিরাট একটি প্রশাসনকে কাজে লাগাতে হলে সৎ, শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক মন্ত্রীদের দ্বারা গঠিত সরকারই প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা করা আজ খুবই প্রয়োজন, যে দল পরিচালিত হবে সক্ষম, সৎ, শিক্ষিত ও প্রগতিশীল এবং দেশ প্রেমের চিন্তাধারায় বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের দ্বারা। নিজেদের মধ্যে যেমন থাকবেনা কোন দ্বন্দ্ব কলহ, লোভলালসা তেমনি প্রতি পক্ষের প্রতিও থাকবে না কোন হিংসা বিদ্বেষ। মূল লক্ষ্য হবে একটিই শুধু দেশের জনগণকে ঔপনিবেশিক শাসন আমলের শোষণ ও অত্যাচারের আইন থেকে মুক্ত করা এবং স¦াধীনভাবে নিজ নিজ ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করার সুযোগ দেওয়া। কয়েকটি প্রাসংগিক বিষয়ে দলের মুল চিন্তাধারা এক হওয়া উচিৎ, কারন কিছু কিছু সমস্যা অযথা তৈরী করা হয় যেন জনগনের দৃষ্টি আসল সমস্যা থেকে দুরে সরিয়ে দেওয়া যায়। যেমনঃ

ক) সাম্প্রদায়িকতা ঃ
বাংলাদেশের জনগন কখনওই সাম্প্রাদিয়ক ছিল না এবং এখনও নেই। এটি একটি রাজনৈতিক বুলি মাত্র। বৃটিশ শাসকরা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাছিলের জন্য এই শব্দটি ব্যবহার করতো। উরারফব ধহফ জঁষব এর মাধ্যমে তারা এ দেশের জনগনকে শাসন ও শোষন করছে এবং ধীরে ধীরে জনগনের মনে এর বীজ বপন করেছে। বস্তুত ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী শাসকরা হাজার বছর ধরে এ দেশ শাসন করেছে, ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। অন্য ধর্মের উপর কোন জোর জুলুম করেনি এবং কোন বৈষম্যও দেখায়নি, বরং তাদের বিশ্বস্ত লোকজনের অধিকাংশই ভিন্ন ধর্মী ছিলেন যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পলাশীর যুদ্ধে মীরমদন, মোহন লালের মতো আরো অনেকেই বাংলার স¦াধীনতা রক্ষায় নওয়াব সিরাজদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছে। মানসিংহ সম্রাট আকবরের বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন । ভারতবর্ষে বৃটিশ আগমনের আগে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সবাই সুখে শান্তিতে একসংগে বসবাস করত, যার যার ধর্ম সে সে পালন করত। পশ্চিমারা যেমন সাদাকালো বৈষম্যে অভ্যস্ত তেমনি তারা এ দেশেও ধর্মের ভিওিতে বৈষম্য প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে লিপ্ত ছিল। কিন্তু আজ অনেকেই এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে এবং গোডা হিন্দু এবং গোড়া মোসলমান ছাড়া কেউ তেমন আচরন করছে না। এমন সময় দূরে নেই যখন মানুষে মানুষে বিভেদ থাকবে না, সত্যিকার অর্থেই মানুষ ধর্ম নিরপেক্ষ হবে। তাই বলে ‘‘ধর্ম নিরপেক্ষ’’ মানে ধর্মহীন নয়। ভাল মানুষ হতে হলে ধর্মের বিকল্প নেই। যুগে যুগে তাই ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্যে। আজও মানুষ যার যার ধর্মের আইন বা অনুশাসন মেনে চলছে এতে কোন পুলিশের প্রয়োজন হয় না। কারণ ধর্মের উৎস বিশ্বাস। অথচ রাষ্ট্রের আইন মানাতে আজ পুলিশের গুলি, আর্মির ট্যাংক কতকিছুই না ব্যবহার করতে হচ্ছে। কারন রাষ্ট্রের আইনের উৎস হচ্ছে ক্ষমতা। বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যেখানে ক্ষমতার লড়াই, সেখানেই অশান্তি। আর তাই পৃথিবীতে আজএত অশান্তি । বাংলাদেশের বেলায় সাম্প্রদায়িকতা সমাজের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই সাম্প্রদায়িকতার সমস্যা নিয়েই ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাগ হয়। বাংলা বিভক্তির মধ্য দিয়েই ঐ সমস্যার সমাধান সেদিন হয়েছিল, তবে আর আবার একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি কেন।

খ) ধর্ম নিরপেক্ষতা ঃ
অনেকেই আবার ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে রাখার পক্ষপাতি। তারা ধর্মকেও জানে না আবার রাজনীতিও জানে না, আসলে তারা সুবিধাবাদী । পশ্চিমারা বেশীর ভাগই খৃষ্টান ধর্মাবল¤¦ী । তাদের যুক্তি এই যে, তাদের ধর্ম প্রচারক যীষু বা হজরত ঈসা(আঃ) ধর্ম প্রচার করেছেন, মানুষকে শান্তির বানী পৌছেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করেন নি, বা যুদ্ধ বিগ্রহ করেন নি বা যুদ্ধ পরিচালনাও করেন নি, অথচ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে যুদ্ধ করতে হবে, কঠোর হতে হবে। সুতরাং রাষ্ট্র এবং ধর্ম এইজন পরিচালনা করতে পারে না। কিন্তু আমাদের ধর্মপ্রচারক, হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) ধর্ম প্রচার করেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, যুদ্ধ করেছেন, সন্ধি করেছেন এবং এ ব্যাপারে কি করনীয় এবং কি বর্জনীয় তা ইসলাম ধর্মে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে। সুতরাং, ইসলাম ধর্মে রাজনীতি থেকে ধর্মকে পৃথক করার কোন অবকাশ নেই। এমনকি হিন্দু ধর্মেও রাষ্ট্র পরিচালনা ও যুদ্ধ পরিচালনার বিশদ বিবরন দেওয়া রয়েছে। তাই এই উপমহাদেশের রাজনীতি কখনই ধর্ম থেকে আলাদা হতে পারে না। যে সব ধর্ম মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্য্যন্ত সকল কার্যক্রমের নির্দেশনা দেয়, সে সব ধর্ম রাজনীতিকে পৃথক করতে পারে না, কারণ রাজনীতি মানুষের কার্য্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। জনগন যেমন রাষ্ট্রের আইন মেনে চলে তেমনি জনগন যারযার ধর্মের আইনও মেনে চলে। রাষ্ট্রের আইন মানাতে পুলিশের প্রয়োজন হয় কিন্তু ধর্মের আইন মানার জন্য কোন পুলিশের প্রয়োজন হয় না।
এই নয় যে একটি স্বাধীন দেশ যা খুশী তাই করতে পারবে। এর সরকার, জনগন বা যে কেউ যা খুশী তাই করতে পারবে। তাহলে অন্য যেকোন শক্তিশালী দেশ অন্য যে কোন দেশকে আগের মত আক্রমন করে দখল করে নিতে পারে। বর্তমানের মুল নীতি হলো দেশের মালিক জনগন এবং জনগনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেমনকিছু করা যাবে না। তাই মুলত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রয়োজন।

১) গনতন্ত্রঃ-

গনতন্ত্র মানে জনগনের দ্বারা নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে অর্থাৎ “Government of the people, by the people and for the people. যদিও এখনও কিছু কিছু স্বধীন রাষ্ট্রে রাজতন্ত্র প্রচলিত, সেখানেও জনপ্রতিনীধিত্ব ব্যবস্থা রয়েছে। মোট কথা বর্তমানে জনগনের ইচ্ছার বাহিরে কোন রাষ্ট্রই পরিচালিত হচ্ছে না। বাংলাদেশও একটি স্বাধীন গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আছে বলেই স্বাধীনতায় কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না এবং কেউ করলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রুখে দাড়ায়। সরকার ব্যবস্থা নিয়ে অনেক চিন্তা, ভাবনা এবং গবেষনা হয় মুলত
ক্স গ) স্বাধীনতাঃ
স্বাধীনতা মানে পশ্চিমা দেশে যেখানে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল। গনতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা তারাই প্রথম প্রবর্তন করে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর অনেক রাষ্ট্রই স্বাধীনতা লাভ করে এবং বিশ্ব সম্প্রদায় গনতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার উপর জোর দেয় এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যে আর্থিক ও কারিগরী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, ফলে অনেক দেশই আজ উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হয়েছে। গনতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাই আজ বিশ্বে সবচেয়ে ভাল সরকার ব্যবস্থা হিসাবে পরিগনিত হচ্ছে। গনতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা হচ্ছে, কিন্তু এখনও এর চেয়ে ভাল কোন সরকার ব্যবস্থার আবির্ভাব হয়নি। তাই এখনও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো এর সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে হলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিশেষ করে ক্ষমতাশীল রাষ্ট্রগুলোকে আরও সচেষ্ট হতে হবে যেন কেউ আবার রাজতন্ত্রের ভুমিকায় অবতীর্ন না হয়। এ ব্যবস্থাকে একটি আদর্শ নীতি হিসাবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজন। একটি সমাজে যেমন ন্যায় প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সমাজের প্রভাবশালী এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির দায়ীত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হয় তেমনি বিশ্বে গনতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা কায়েম করতে হলে বিশ্বের সামর্থ্যবান এবং ক্ষমতাশীল রাষ্ট্রগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে প্রভাবশালী,পারে।

আবার বলতে হয়, পদ্ধতির যতই উন্নতি করা যাক না কেন, এর প্রয়োগ করতে ভাল মানুষের প্রয়োজন এবং সে ক্ষেত্রে ভাল ধর্মের বিকল্প নেই।

সভাবতঃই প্রশ্ন উঠে, দেশে এতগুলো রাজনৈতিক দল বিশেষতঃ দু‘তিনটি বড় বড় দল থাকতে আবার একটি নতুন দলের প্রয়োজনীয়তা কেন । কথায় বলে ‘‘পুরান পাগলের ভাই নাই, নুতন পাগলের আমদানী’’।

সংক্ষিপ্ত জবাবে বলা যায় যে, বাংলাদেশ একটি নুতন স¦াধীন রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিালনায় রাজনৈতিক দলের কোন বিকল্প নেই। এ দেশে এখও কোন রাজনৈতিক দল তেমন সুসংহত, সংগঠিত এবং প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেনি। সবাই সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউই গুছাতে পারছে না। রাজনীতি কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহল। তবুও যারা এ পথে পা বাড়িয়েছেন এবং এগুচেছন তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এতে ধৈর্য্যরে এবং সময়ের প্রয়োজন । নতুন নতুন দলেরও প্রয়োজন । দল যত বেশি হবে ততই প্রতিযোগিতা বাড়বে । সবাই চেষ্টা করবে আরও ভাল করার এবং আরও ভাল হওয়ার । রাজনীতিতে ধীরে ধীরে ভাল পরিবেশ বিরাজ করবে এবং ভাল লোকের সমাগম হবে। যারা অগ্রনী ভুমিকা পালন করবে তারা নিশ্চয়ই স¦রনীয় হয়ে থাকবে। বিজ্ঞ ব্যক্তি এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদগনের দলত্যাগ এবং নতুন দল গঠনের বাস্তবতাই নুতন দল গঠনের প্রযোজনীয়তার সাক্ষ্য বহন করে। সস্ত্রাসীদের সহায়তায় যেসব দল টিকে আছে বা ক্ষমতায় আসে/বসে, সেসব দল দুর্নীতিমুক্ত হতে পারে না কারণ তারা সব সময় সস্ত্রাসীর হাতে জিম্মী থাকে। এইসব দল কোনদিনই ভালো কাজ করতে পাওে না। “ইধফ মড়াবৎহসবহঃ রং হবাবৎ ংবষভ পড়ৎৎবপঃরহম, রঃ রং ংবষভ ঢ়বৎঢ়বঃঁধঃরহম”। বর্তমানে দলগুলোতে গনতন্ত্রের চর্চা নেই, তাই এগুলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এখানে কর্মীদের কোন মূল্যায়ন হয় না। এরা সময়মত কাউন্সিল অধিবেশনই করতে পারে না। সুতরাং নুতন দল ছাড়া কোন উপায় নেই।

উপসংহার ঃ
আমাদের অনেকেই অন্যের দোষ, ব্যর্থতা এবং সমালোচনা করতে বেশী পছন্দ করি। অথচ নিজে কোন দায়ীত্ব নিতে রাজি নই।নিজে কোন কাজ করব না আবার অন্য কাউকে কাজ করতেও দেবনা। রাজনীতির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। দলের বা দল প্রধানের সমালোচনার অন্ত নেই। মোট কথা আমরা কারো নেতৃত্বে বিশ্বাস করি না। “আমরা সবাই রাজা”। যার যা ইচ্ছা মত কাজ করতে চাই কিন্তু আমরা চাই যে আমাদের ইচ্ছামত অন্যেরা যেন কাজ করুক। ফলে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকতে পারে কিন্তু নিজের মত অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া কি ঠিক? আমার মতের প্রতি অন্য কয়জনের কতটুকু সমর্থন আছে তা জানা দরকার।

অতীতই ভবিষ্যৎ নির্ধারন করে।
বাংলার ইতিহাস কিছুটা আগেই বলেছি। তবে রাজনৈতিক ইতিহাস তেমন নেই বলে বলা হয়নি। যতটুকু জানি বা ইতিহাস বলে লক্ষন সেনের নিকট থেকে খিলজী নদীয়া দখল করে নেয় (১১ থেকে ১২ শতাব্দীতে)্্ তখন কোন সৈন্য সামন্ত বা যুদ্ধের কেল্ল া অর্থাৎ কোন রাজ রাজত্বের পরিবেশ ছিল না। পরে হয়ত জনবসতি বেশী হলে খাজনার প্রয়োজনে দীল্লির বাদশা সুবেদার নিযুক্ত করেন , তাও আবার ঢাকা, মুর্শিদাবাদ বা কলিকাতায়। মোট কথায় পশ্চিমবংগের কলিকাতায়, পুর্ব বংগে কৃষক ছাড়া, রাাজা বা জমিদার কিছ’ুই ছিল না। বড়যোড় পেয়াদারাই ছিল। তার মানে রাজনৈতিক কোন কর্মকান্ড ছিল না। রাজনীতি ছিল কলিকাতায় এবং রাজমহলে ।এবং খেলোয়ার ছিল নোয়াবদের, মিরজাফর, জগৎশেঠ,রাজ বল্লব, ঘসেটি বেগম, উমিচাদ এদের মাঝে, ক্ষমতা ও টাকার ভাগাভাগি নিয়ে। জনগন ছিল দর্শক মাত্র।, দাবা খেলার গুটি মাত্র, যারা রাজনীতির কিছুই বুঝত না। বাংলার যত অপকর্মের মুলে ছিল কলিকাতার জমিদারেরা।, নবাব, রায়বল্লব, উমিচাদ, জগৎশেঠ, মিরজাফর, ঘষেটি বেগম প্রমুখগন। রাজনীতি কাকে বলে তাও তারা জানতো না। সেই ১৯৪৭ থেকে আজ পর্য্যন্ত রাজনৈতিক উন্নয়ন অনেক হয়েছে বলতে হবে। নুতন একটি রাষ্ট্রের জন্য রাজনিৈতক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য্য এবং বিরাট অর্জন। ১৬ কেটি জনগনের মধ্যে ৩০০ জন প্রতিনীধি মনোনীনত করা খুবই কঠিন ।গত কয়েক বৎসর যাবত এর কোন স্থায়ী সমাধান হচ্ছিল না। অন্ততঃ পার্লামেন্টের সমস্যা সমাধান হলো। কোন কিছুাই চিরস্থায়ী নয়। আবারও পরিবর্তন, পরিবর্ধন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এবার মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে পরাধীনতার আমলের শাসন এবং শোষনের আইনের পরিবর্তন করার দিকে। প্রায় ১৩,০০০ এমন আইন রয়েছে যা ১৮৪৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় বৃটিশ/ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী প্রনয়ন করে ছিল। বিদ্রোহ দমনের জন্য তখন হয়ত প্রয়োজন ছিল। এদের প্রয়োগের প্রয়োজন হয়ত এখন নেই, কিন্তু যেহেতু আইনের সুযোগ রয়েছে যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে তেমন অনেক আইন স্থগিত করা হয়েছে তবু অনেক আইন হয়ত রয়ে গেছে যা সআধীন দেশের নাগরিকের জন্য উপযুক্ত নয়, তা পরিবর্তন করা উচিৎ, সেগুলো বাদ দেওয়া যেতে পারে।
” তবে খেয়াল রাখা উচিৎ যেন যারা চাকুরীতে আছে তাদের দিয়ে কোন কমিটি না করা হয়, কারন তারা এইসব আইন প্রয়োগে অভ্যস্ত, তারা কোন পরিবতর্ন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হওয়া নয়। শ্রদ্ধা নিয়ে আমি বলতে চাই আগেও এমন অনেক কমিটি হয়েছে কিন্তু কোন উপকারে আসেনি। যারা বর্তমান আইন কানুনে অভ্যস্থ, হয় পুলিশ সার্ভিসে হউক বা বিচার বিভাগে হউক তারা পরিবর্তন মানতে চাইবে না। তাদেরকে কো কমিটিতে রাখা ঠিক হবে না। পলিটিশিয়ানকে তো নয়ই।” প্রয়োজন বোধে উন্নত দেশের বিদেশী বিষেশজ্ঞ, বৃটিশ, আমেরিকান,

আমাদের অনেকেই অন্যের দোষ, ব্যর্থতা এবং সমালোচনা করতে বেশী পছন্দ করি। অথচ নিজে কোন দায়ীত্ব নিতে রাজি নই।নিজে কোন কাজ করব না আবার অন্য কাউকে কাজ করতেও দেবনা। রাজনীতির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। দলের বা দল প্রধানের সমালোচনার অন্ত নেই। মোট কথা আমরা কারো নেতৃত্বে বিশ্বাস করি না। “আমরা সবাই রাজা”। যার যা ইচ্ছা মত কাজ করতে চাই কিন্তু আমরা চাই যে আমাদের ইচ্ছামত অন্যেরা যেন কাজ করুক। ফলে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকতে পারে কিন্তু নিজের মত অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া কি ঠিক? আমার মতের প্রতি অন্য কয়জনের কতটুকু সমর্থন আছে তা জানা দরকার।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান হলো আইন পরিষদ, যাতে ৩০০ জন নির্বাচিত সদস্য থাকেন। এদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে থেকে ৩০০ জন দক্ষ এবং ভাল মানুুষ পাওয়া যাবে না, এটা ঠিক নয়। বর্তমানে অনেকেরই উপলব্ধি এসেছে যে আইন পরিষদে ভাল এবং যোগ্যতা সম্পন্ন লোকের সমাগম হউক।

এখানে যোগ্যতা বলতে আইন প্রনয়নের যোগ্যতা যা একজন আইন প্রনেতার বিশেষভাবে প্রয়োজন। এ বিষয়ে তাকে অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে। তার মানে এই নয় যে অশিক্ষিত কাউকে ছোট করা। রোগ সারাতে গেলে শিক্ষিত ডাক্তার লাগবে, তেমনি আইন পরিবর্তন বা প্রনয়ন করতে গেলে শিক্ষিত হতেই হবে এবং দেশের বর্তমান আইন, বিদেশী স¦াধীন দেশের আইন ইত্যাদি সম্পর্কে লেখাপড়া, ভাল ধারনা অবশ্যই থাকতে হবে। মোট কথা অশিক্ষিত লোক যতই সৎ এবং ভাল হোক বর্তমান কাজের জন্য উপযুক্ত হবে না। যেহেতু আগেই বলেছি, জনগনকে দুটি আইন মেনে চলতে হয় যেমনঃ একটি ধর্মের আইন এবং অপরটি রাষ্ট্রের আইন। সুতরাং দুটি আইন সম্পর্কেই সবার ধারনা থাকা দরকার।

এই দল গঠনের প্রধান উদ্দ্যেশই হলো বাংলাদেশের ১৬ কোটি লোকের মধ্য থেকে অন্তত ৩০০ জন ভাল এবং যোগ্য মানুষকে একত্রিত করা। এটি একটি রাজনৈতিক চষধঃভড়ৎস মাত্র। যার মাধ্যমে একই এবং ভাল চিন্তাধারার ভাল মানুষ একত্রিত হবে ও সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনে অংশ গ্রহণ করবে। যারা রাতারাতি এম, পি, মন্ত্রী বা বড়লোক হতে চান তাদের জন্য এই দল হয়ত তেমন আশা পুরন করতে পারবে না। যারা সত্যিকার অর্থে রাজনীতি করতে চান বা রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনে অংশ গ্রহন করতে চান, তাদের জন্য এই দলে যোগদান সফলতা বয়ে আনবে। আল্লাহ আমাদের সহায় ইউন।

তাং, ২২জানুয়ারী, শে ২০১৯ইং

নিবেদক
ইঞ্জিঃ মোঃ হোসেন ভূইয়া
চেয়ারম্যান
স¦াধীন বাংলা সমাজ পার্টি,
০১৭১১৬৪৪৭৩৩, ০১৭৭৬৭৭০৩৪৯,
বি: দ্র: (পরিবর্তনযোগ্য এবং আগামী কাউন্সিল অধিবেশনে অনুমোদন সাপেক্ষে প্রচারিত)